দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বদলি-বাণিজ্য বন্ধ এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে লটারির মাধ্যমে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ১৫৫ জন নির্বাহী প্রকৌশলীকে বদলি ও পদায়ন করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে অধিদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ ২০টি জোন বা বিভাগে যোগ্য প্রকৌশলীদের পদায়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ও সংসদ সচিবালয়সহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে আপাতত পদায়ন করা হচ্ছে না।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে নির্বাহী প্রকৌশলীদের পদায়নে লটারি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
লটারির আগে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, গণপূর্ত অধিদপ্তরকে স্বচ্ছ, গতিশীল ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে চায় সরকার। বদলি ও পদায়নে কোনো ধরনের অনিয়ম বা বাণিজ্য বরদাশত করা হবে না। এ ক্ষেত্রে সরকারের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে জানিয়ে জাকারিয়া তাহের বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের অতীতের কাজ, কর্মদক্ষতা ও চাকরির রেকর্ড বিবেচনায় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে যোগ্য ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। এরপর নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় লটারির মাধ্যমে পদায়ন করা হবে, যাতে কেউ নিজের পছন্দ অনুযায়ী পদ বেছে নেওয়ার সুযোগ না পান।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য একটাই, বদলি-বাণিজ্য বন্ধ করা, সুশাসন ফিরিয়ে আনা এবং সবাইকে সমান সুযোগ দেওয়া। যোগ্য লোককে যোগ্য জায়গায় বসাতে চাই। গণপূর্ত অধিদপ্তরকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক অবস্থানে নিয়ে যেতে চাই।’
এর আগে লটারির মাধ্যমে ৭৬৭ জন উপসহকারী প্রকৌশলী, ২৫৪ জন উপসহকারী প্রকৌশলী (ইলেকট্রিক্যাল), ২১৯ জন সহকারী প্রকৌশলী এবং ১৯০ জন উপবিভাগীয় প্রকৌশলীকে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৪৩০ জন প্রকৌশলীকে লটারির মাধ্যমে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
এবার নির্বাহী প্রকৌশলীদের পদায়নের ক্ষেত্রে অধিদপ্তরের প্রায় ২০টি গুরুত্বপূর্ণ জোন বা বিভাগকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এসব কর্মস্থলে দক্ষ ও যোগ্য প্রকৌশলীদের দায়িত্ব দিতে আলাদাভাবে কাজ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ও সংসদ সচিবালয়সহ তিন থেকে চারটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে আপাতত পদায়ন করা হচ্ছে না জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এসব দপ্তরের বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
লটারির মাধ্যমে বদলি ও পদায়ন করা হলেও মানবিক বিবেচনায় আবেদনের সুযোগ রাখা হয়েছে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী কর্মকর্তা, প্রতিবন্ধী সন্তান রয়েছে এমন কর্মকর্তা এবং গুরুতর অসুস্থ মা-বাবার পরিচর্যার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের আবেদন বিবেচনা করা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, ‘কাউকে হয়রানি করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। সবাই যেন সমান সুযোগ পান, আবার মানবিক বিষয়গুলোও যেন বিবেচনায় থাকে, সেটি নিশ্চিত করতে চাই। মানবিক কারণে কয়েকজন আবেদন করেছেন। তাঁদের সুবিধা অনুযায়ী পদায়নের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’
গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্প ও পদায়ন নিয়ে অতীতে ওঠা অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, বদলি ও পদায়নের পাশাপাশি সরকারি জমি ব্যবস্থাপনা এবং আবাসন সেবায় স্বচ্ছতা আনতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষগুলোর জমির তথ্য নিয়ে একটি ‘ল্যান্ড ব্যাংক’ তৈরির কাজ চলছে। সরকারের মেয়াদের মধ্যে যতটা সম্ভব জমির তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতির আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান জাকারিয়া তাহের।
তিনি বলেন, ‘কোন জমি সরকারের মালিকানায় রয়েছে, কোনটি সরকারের দখলে আছে এবং কোন জমি বেদখলে রয়েছে, এসব তথ্য চিহ্নিত করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
মন্ত্রী আরও জানান, আবাসন বরাদ্দের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা বাড়াতে ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করা হবে। এ সপ্তাহের মধ্যেই এ-সংক্রান্ত একটি প্রকল্প চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মন্ত্রণালয়ের প্রতিটি ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে চাই। লটারি, ডিজিটাইজেশনসহ বিভিন্ন উদ্যোগের উদ্দেশ্য একটাই, প্রক্রিয়াগুলো স্বচ্ছ করা এবং কাজের ক্ষতি না করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।’
এমএম/